ছেলেকে বাঁচাতে একটি মুসলিম পরিবারের পূজা পাঠ !

১৫ বছর ধরে এভাবেই চলে আসছিল। বড় সন্তানকে বাঁচাতে স্বপ্নে দেখা এক পুরুষের আদেশ অনুযায়ী বাড়িতে পূজা পাঠের আয়োজন করেছিল এক পরিবার। একই সঙ্গে ওই বাড়িতে কুরআন তেলাওয়াতও করা হতো। তবে পূজার আয়োজন করা হতো অতি গোপনে।

ঘটনাটি ঠাকুরগাঁও শহরের শাহপাড়া এলাকার। অবশেষে বুধবার ঘটনাটি জানা জানি হওয়ার পর এলাকাবাসী ওই বাড়িটি ঘেরাও করে রেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ওই বাড়িতে এসে একটি মূর্তি উদ্ধার করে। এসময় ওই বাড়ির দম্পতি সোলেমান (৬১) ও তার স্ত্রী নূরজাহানকে (৪৫) আটক করে থানায় এনেছে।

আটক নূরজাহান বলেন, ১৫ বছর আগের কথা। স্বপ্নে এক পুরুষ আসে বাড়িতে। তিনি বাড়িতে থাকার জায়গা চেয়েছিলেন। আমি তাতে রাজী হয়নি। এরপর সে বলে রাজী না হয়ে খারাপ করলি। এতে তোর বড় ছেলের জীবন চলে যাবে। তাকে যদি বাঁচাতে চাইস তাহলে বাড়িতে তোকে মূর্তি পূজা করতে হবে। প্রথম অবস্থায় তার কথা বিশ্বাস করিনি। এর কয়েক দিন পরেই আমার ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন ভয় পেয়ে যাই। এরপর ঘরের মধ্যে একটি পাথর রেখে পূজা করি। এরপর ছেলে সুস্থ হয়ে উঠে। তখন থেকেই ছেলেকে সুস্থ রাখার জন্য পূজা শুরু করি। তবে আমরা কুরআনও পড়তাম।

প্রতিবেশিরা জানায়, তারা এ কাজটি করতো অতি গোপনে। তবে তারা কাউকে অনুপ্রাণিত করতো না।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, একটি মানুষ কখনই দুটি ধর্মের অনুসারী হতে পারে না। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তাদেরকে আটক করা হয়েছে।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন।