ফেসবুকে ভাইরাল – এবার ৭ বছরের শিশুকে হাঁত-পা বেঁধে পিপড়ার চাকে ফেলে নির্যাতন – কোথায় মানবতা ?

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার পীরপুরকুল্লা গ্রামে সৎ মা সাত বছরের শিশু জুনাইদকে হাঁত পা বেঁধে পিঁপড়ার ঝাঁকে ফেলে নির্যাতন করেছে। প্রতিনিয়ত এমন অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করে শিশু জুনাইদের সৎমার সংসারে ভাত খেতে হয়। বুধবার স্থানীয় একটি দৈনিকে বিষয়টি উঠে আসলে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রশীদুল হাসান তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিতে দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদকে নির্দেশ দেন। পুলিশ সুপারের নির্দেশ পেয়ে দামুড়হুদা থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার দুপুরে কার্পাসডাঙ্গা বাজার

থেকে জুনাইদের পিতা জামসেদকে আটক করতে সক্ষম হলেও তার সৎ মা পালিয়ে গেছে। প্রতিবেশীরা জানায়, দামুড়হুদা উপজেলার পীরপুরকুল্লা গ্রামে জামসেদ আলী কার্পাসডাঙ্গা বাজারের ব্রীজ মোড়ে ফলের ব্যবসা করে। সকালে ব্যবসার উদ্দেশ্যে কার্পাসডাঙ্গায় যায় ফিরতে রাত ১০/১১ টা বাজে। ফলে ঠিকমত ছেলের খোঁজ খবর নিতে পারেনা পিতা জমশেদ। জামসেদের ১ম স্ত্রী মারা গেলে উপজেলার বুইচিতলা গ্রামে সে ২য় বিয়ে করে। তাদের কোল জুড়ে আসে ফুটফুটে সন্তান জুনাইদ। জুনাইদের বয়স যখন ৪ বছর তখন পারিবারিক কলহে তার মা বিষপানে মারা আতহত্যা করে। জুনাইদ এতিম হয়ে পড়ে। মাস দুই না পেরোতেই ছেলের কথা না ভেবে নিজের সুখের জন্য জমশেদ আবারও বিয়ের পিড়িতে বসে। রোজিনা নামের এক মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে আনে নতুন বৌ। নতুন বৌ পেয়ে এতিম ছেলের কথা প্রায় ভুলেই গিয়েছিল সে।

অবহেলা অযত আর প্রতিনিয়ত বিভিন্ন নির্যাতন সহ্যকরে জুনাইদও বড় হতে থাকে সৎমায়ের সংসারে। এরই মাঝে গত সোমবার সকালে জুনাইদ পুকুরে গোসল করার অপরাধে তার পাষন্ড বাবা ও সৎ মা মিলে জুনাইদকে হাত পা বেঁধে পিপড়ার ঝাঁকে ফেলে রাখে। জুনাইদ পিপড়ার কামরে যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকে এবং পানি খাবো বলে চিৎকার করতে থাকে। তার আতচিৎকারে পাষন্ড পিতা ও সৎ মায়ের মনে একটুও করুনা হয়নি। তার মুখে একফোটা পানি পর্যন্ত দেয়নি তার নিষ্ঠুর পিতা ও সৎমা রোজিনা। এক সময় জুনাইদ নিস্তেজ হয়ে পড়লে একই পাড়ার কলিমের ছেলে বাবলু তাকে পিঁপড়ার ঝাক থেকে উদ্ধার করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে আসে। ততক্ষনে জুনাইদের শরীর পিঁপড়ার কামড়ে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে।

খবর পেয়ে স্থানীয় মেম্বর রাজ্জাক জুনাইদের চিৎকিসা শেষে বাবা মাকে বিষয়টি নিয়ে কঠোর সতর্ক বানী দেন। ভবিষ্যতে জুনাইদের সাথে এমন খারাপ আচারণ করলে আইনি ব্যাবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারী দেন। মঙ্গলবার সন্ধায় জুনাইদের বাবার সাথে কথা বললে তিনি জানান, ওর সৎমার কোন দোষ নেই। সব দোষ আমার। এলাকাবাসীসহ সচেতন মহল জুনায়েদের বাবা জামসেদ ও সৎমা রোজিনার শাস্তির দাবি করেছে। দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ জানান, এসপি স্যারের নির্দেশ পেয়ে তদন্তকাজ শুরু করেছি। এছাড়া নির্যাতিত শিশুটির পাষন্ড পিতাকে আটক করতে পারলেও তার সৎমা পালিয়ে গেছে।