ফোন নাকি বোমা? নয়া স্মার্টফোনে আগুন লাগছে জিপে, বাড়িতে

স্মার্টফোন নাকি বোমা? বিশ্বজুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে ‘ত্রাহি ত্রাহি’ রব। কৃতিত্বটা কার জানেন? স্যামসাঙের সদ্য বাজারে আসা ব্র্যান্ড ‘গ্যালাক্সি নোট সেভেন’-এর স্মার্টফোনের। কোথাও স্যামসাঙের ওই নতুন ব্র্যান্ডের স্মার্টফোনের ‘বদমেজাজ’ আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে জিপে। কোথাও বা তার ‘বদমেজাজে’র পাল্লায় পড়ে দাউদাউ করে জ্বলছে আস্ত একটা বাড়ি। শুধু দামেই নয়, ‘গ্যালাক্সি নোট সেভেন’ স্মার্টফোনের ‘বদমেজাজ’ কার্যত আগুন লাগিয়ে দিয়েছে বিশ্ব জুড়েই।

স্যামসাঙের নতুন স্মার্টফোনের বদমেজাজের আপাতত দু’টি ঘটনার খবর পাওয়া গিয়েছে। একটি ঘটেছে আমেরিকার সাউথ ক্যারোলিনায়। অন্য ঘটনাটি ঘটেছে আমেরিকার ফ্লোরিডায়। ‘গ্যালাক্সি নোট সেভেন’-এর ‘বদমেজাজে’র আরও আরও খবরাখবর আসতে শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়া থেকে। জার্মানি, কাতার, জর্ডন থেকেও। গ্যালাক্সির ‘বদমেজাজ’ জিপে আগুন লাগিয়েছে ফ্লোরিডায়। আর বাড়ি পুড়িয়েছে সাউথ ক্যারোলিনায়।

যাঁর জিপ পুড়েছে, ফ্লোরিডার সেই বাসিন্দা নাথান ডোর্নাচার ফেসবুকে জানিয়েছেন, বাড়ির বাইরে তাঁর গাড়িটি রেখে একটু ভেতরে ঢুকেছিলেন তিনি। সেই সময় গাড়ির এয়ার কন্ডিশনারটি চালু রেখে গিয়েছিলেন। আর গাড়ির মধ্যেই চার্জে বসিয়ে রেখে গিয়েছিলেন তাঁর সাধের স্যামসাঙের ‘গ্যালাক্সি নোট সেভেন’ স্মার্টফোনটিকে। পরিবারের লোকজনকে ডেকে নিয়ে এসে গাড়িতে তুলবেন বলেই গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করেননি ডোর্নাচার। পরিবারের লোকজনকে নিয়ে গাড়িতে ওঠার জন্য বাড়ি থেকে বেরতেই তিনি দেখেন, তাঁর জিপটি দাউদাউ করে জ্বলছে। আর মোবাইলটি পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। এর পর ক্ষোভে, দুঃখে ডোর্নাচার পোড়া জিপ আর মোবাইলের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে দেন।

এর পর স্যামসাঙের তরফ থেকে ওই ঘটনার জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, ‘‘আমরা ডোর্নাচারের ক্ষতি পূরণ করার জন্য যা যা করণীয়, তার সব কিছুই করছি।’’

অন্য ঘটনাটি ঘটেছে সাউথ ক্যারোলিনার হরি কাউন্টির বাসিন্দা ওয়েস্‌লি হার্ৎঝগের বাড়িতে। ওয়েস্‌লি তাঁর সাধের স্যামসাঙের ‘গ্যালাক্সি নোট সেভেন’ মোবাইলটি তাঁর বাড়ির গ্যারাজে চার্জে বসিয়ে রেখে ঢুকেছিলেন বাড়িতে। পরে বেরিয়ে এসে দেখেন, গ্যারাজটিতে আগুন লেগে গিয়েছে। গ্যারাজটি দাউদাউ করে জ্বলছে। পরে সেই গ্যারাজের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দমকল কর্মীরা আসার আগেই সেই আগুনে ওয়েস্‌লির বাড়ির একাংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ওয়েস্‌লির পরিবারকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তার অল্প কয়েক দিন আগে অস্ট্রেলিয়ায় স্যামসাঙের ওই ব্র্যান্ডের ফোনের এক ব্যবহারকারী প্রায় দেড় হাজার ডলারের মতো ক্ষতি হয়।

ওই সব ঘটনার প্রেক্ষিতে আমেরিকার ‘ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অথরিটি’ সব মার্কিন বিমানে স্যামসাঙের ‘গ্যালাক্সি নোট সেভেন’ মোবাইলটি নিয়ে ওঠার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। একই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার তিনটি বিমান সংস্থা ‘কান্তাস’, ‘জেটস্টার’ ও ‘ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া’র বিমানেও।