বাংলাদেশের এই রিক্সাওয়ালা ভাই পাঁচ দেশ সফর করে এবার তাবলীগ করতে ইউরোপে যাচ্ছেন !

রিস্কা চালানো-ই যার পেশা। আর দাওয়াতের কাজ তার নেশা। পেশা থেকে তার কাছে নেশার গুরুত্বই বেশি। দাওয়াতের কাজকে কাজ বানিয়ে এই রিস্কার ড্রাইবার আবুল কাসেম ভাই ইতোমধ্যে ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, মালশিয়া, জর্ডান, কাতারের মতো উন্নত বিশ্বে সফর করেছেন। তার ঈমান দীপ্ত কথায় পথের দীশা পাচ্ছে কত মানুষ। দাওয়াতের কাজ নিয়ে তিনি ছুটছেন দেশ থেকে দেশান্তরে। সারা দুনিয়ায় দ্বীনের ফেরি করা তার নিয়ত। এবার তিনি ইউরোপ সফরের জন্য কাকরাইলে টাকা জমা দিয়ে ‘ছোয়াদ’ হয়েছেন। এই শ্রমজিবী মানুষটি দরিদ্রতার সাথে নিত্য সংগ্রাম করলেও,অভাব তাকে কখনো কাবু করে, দ্বীনের মেহনত থেকে পিছু হটাতে পারে নি। মসজিদ আবাদির মেহনত, দৈনিক পরামর্শ, প্রতিদিন আড়াই ঘন্টা দাওয়াতের মেহনত, ঘরে ও মসজিদে তালিম, প্রতি সপ্তাহে নিজের মহল্লায় ১ম গাশত, অপর মহল্লায় ২য় গাশত, মাসে তিনদিন আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়া। বৃহস্পতিবারে লক্ষিপুর মার্কাজে সবগুজারী, মঙ্গলবারে পরার্মশে শরীক হওয়া, দেশি বিদেশি জামাতের নুছরত, মাস্তুরাতের মেহনত, সব তাকাজাতে আবুল কাসেম ভাই লাব্বায়েক বলেন। এহতেমাম ও ইস্তেকামাতের সাথে তিনি দাওয়াতের মেহনত ও মহল্লাহর ৫ কাজ করেন। বিনিময়ে তার রিস্কা চালানো জীবনে আল্লাহ তায়ালা অফুরন্ত বরকত দান করেছেন। যার মাঝে কোন প্রকার পেরেশানী নেই। ইলাহে কালেমাতুল্লাহর মেহনত ই তার জীবনের মূল মাকসাদ।
.riksawala
যে আল্লাহর হয়ে যায়, আল্লাহ তার হয়ে যান। লক্ষিপুরের এই পরিচিত রিস্কা চালক, দা’য়ী ভাই মোহাম্মদ আবুল কাসেম দ্বীনের মেহনত ক্বারীদের জন্য উজ্জল দৃষ্টান্ত। রিস্কা চালান এটাও দাওয়াতের নিয়তে। পেসেন্জারদেরকে তিনি ঈমান, নামাজ, ও আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়ার ফাজায়েল বলে দাওয়াত দেন। তিনি যখন হেজাজে সফরে গেলেন, তখন উনার এলাকার এক লোক তাকে পেয়ে জিজ্ঞাসা করল, “তুমি লক্ষিপুরে রিস্কা চালাও সেই ব্যক্তি না, তুমি আরবে এলে কি করে, এতো টাকা কোথায় পেলে”। কাসেম ভাই উত্তর দিলেন,’আমি রিস্কা চালাই আমার আল্লাহতো রিস্কা চালান না, তিনি অসিম খাজানার মালিক।

আয় আল্লাহ তুমি আমাদেরকে দ্বীনের জন্য এই ভাইয়ের মতো তোমার খাছ মদদ ও সাহায্য দ্বারা সারা দুনিয়া সফর করার তাওফিক দান কর।
আমিন ।।